1. mahbub@krishinews24bd.com : krishinews :

এ সময়ের কৃষিঃ(পর্ব-১১) ঘন পদ্ধতিতে আম বাগান স্থাপন কৌশল?

  • আপডেট টাইম : Monday, August 31, 2020
  • 217 Views
এ সময়ের কৃষিঃ(পর্ব-১১) ঘন পদ্ধতিতে আম বাগান স্থাপন কৌশল?
এ সময়ের কৃষিঃ(পর্ব-১১) ঘন পদ্ধতিতে আম বাগান স্থাপন কৌশল?

কৃষিবিদ কামরুল ইসলাম

প্রশ্নঃ ঘন পদ্ধতিতে আম বাগান স্থাপন সম্পর্কে জানতে চাই। ( অনেকেই জানতে চাইছেন)

পরামর্শঃ
————
ধন্যবাদ, অত্যন্ত সময়োপযোগী প্রশ্নটি করার জন্য। বর্তমান কৃষি বাণিজ্যিক কৃষি। তাই, আমাদেরকে গতানুগতিক ধারণার বাহিরে গিয়ে (out of box) গিয়ে কৃষিকে নিয়ে ভাবতে হবে। আর এই ধারণার একটি চেষ্টা হচ্ছে ঘন বা অধিক ঘন পদ্ধতিতে ( High Density/ Ultra High Density) আম বাগান স্থাপন। বর্তমানে এই পদ্ধতিতে দেশের পাহাড়ি অঞ্চল, নওগাসহ বেশ কয়েকটি জেলায় আম বাগান গড়ে উঠছে। আসুন এই পদ্ধতি সম্পর্কে জানার চেষ্টা করি……………..

ঘন বা অধিক ঘন ( High Density/ Ultra High Density) পদ্ধতি
——————————————————————

এইটা এমন একটি আধুনিক পদ্ধতি যার মাধ্যমে সর্বোচ্চ সংখ্যক গাছ লাগিয়ে গাছের বৃদ্ধি নির্দিষ্ট কাঠামো পর্যন্ত সীমাবদ্ধ করে অল্প সময়ে অধিক লাভবান হওয়া।

এই পদ্ধতির মূল উদ্দেশ্য ঃ
————————————-
১) অফ সিজনে ফল সংগ্রহ

২) সীমিত পরিসরে সর্বোচ্চ সংখ্যক গাছের সমাহার ঘটানো

৩) সারাবছর আমের সরবরাহ নিশ্চিত করা

৪) আর্থিকভাবে অধিক লাভবান হওয়া

রোপণ কৌশলঃ
———————
এই পদ্ধতিতে ঘন করে আম গাছ লাগানো হয়। সাধারণত আমরা ১০ মিটার পর পর একটি করে ০১ হেক্টরে ১০০ টি গাছ লাগিয়ে থাকি, কিন্তু আধুনিক পদ্ধতিতে রোপণ দূরত্ব ( spacing) কমিয়ে হেক্টরে ৪০০-৩৩০০ পর্যন্ত আম গাছ রোপণ করা সম্ভব। তবে, গাছের উচ্চতা ২.৫-৩.০ মিটার উচ্চতার মধ্যে অবশ্যই রাখতে হবে।

**রোপণ দূরত্ব( মি.) গাছের সংখ্যা (হেক্টর প্রতি)
———————– ———————————-
৩ x ১ ৩৩৩৩

৩ x ১.৫ ২২২২

৪ x ১ ২৫০০

৪ x ১.৫ ১৬৬৬

৫ x ৫ ৪০০

২.৫ x ২.৫ ১৬০০

** তবে এই ক্ষেত্রে গাছের উচ্চতা অবশ্যই ২.৩-২.৫ মিটারের মধ্যে রাখতে হবে। ( সূত্রঃ ইন্ডিয়ান বিভিন্ন পত্রিকা থেকে সংগৃহীত)

© গাছকে ১জি, ২ জি ও ৩ জি পদ্ধতিতে নিয়মিত প্রুনিং করে এই উচ্চতায় রাখতে হবে। প্রত্যেক প্রুনিং এ ০৩ টি করে ডগা বা ডাল রাখতে হবে।

© গাছে ০৩ মাস পর পর সার প্রয়োগ করতে হবে। জৈব সার বিশেষ করে ভার্মি কম্পোস্ট পর্যাপ্ত পরিমাণে ব্যবহার করতে হবে।

© বারোমাসি গাছ লাগালে অন সিজনের ফেব্রুয়ারী মাসে আসা ( মে-জুন মাসের ফল) মুকুল ভেঙে দিতে হবে। এতে করে অফ সিজনের ( নভেম্বর ও মে মাস) মুকুল রেখে দিয়ে মার্চ-এপ্রিল এবং আগস্ট-অক্টোবর মাসে ফল সংগ্রহ করা। অন সিজনের মুকুল ভেঙে দিলে অন্য দুই সিজনে ফলের আকার বড় হয়।

© গ্রাফটিং ১.৫ ফুটের মধ্যে করতে হবে।

সম্ভাব্য জাতঃ
——————
আম্রপালি, থাই বারোমাসি কাটিমন, বারি-১১, বারি-৪, রাতুল, রাতওয়ালা ইত্যাদি।

@ এই পদ্ধতিতে গাছ ছোট থাকায় সহজেই পরিচর্চা, ব্যাগিং করা সহজ হয়।

বিস্তারিত পরামর্শের জন্য যোগাযোগ করুনঃ
————————————————————
স্থানীয় উপজেলা কৃষি অফিস,
সরকারী হর্টিকালচার সেন্টার ও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট এর ফল গবেষণা কেন্দ্র সমূহ।

( Note. এই লিখার ব্যাপারে যে কোন সংশোধনী সাদরে গ্রহণযোগ্য )

® কৃষি বিষয়ক যে কোন জিজ্ঞাসা থাকলে কমেন্ট করতে পারেন

উত্তর প্রদান করেছেন,
কৃষিবিদ কামরুল ইসলাম
৩৫ তম বিসিএস কৃষি
কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার
পুঠিয়া, রাজশাহী

নিউজ টি শেয়ার করে অন্যদের জানার সুযোগ করে দিন...

এ জাতীয় আরো খবর..

© All rights reserved © 2020 krishinews24bd

Site Customized By NewsTech.Com