নিউজ ডেস্কঃ

বিশ্বব্যাপী নভেল করোনা ভাইরাসের প্রভাবে কাঁকড়া রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশে কাঁকড়া শিল্পে ধস নেমেছে। করোনার এই মহামারীতে এক এক করে কাঁকড়ার ক্রয় আদেশ বন্ধ হয়ে গেছে। গত ২৬ জুন থেকে হঠাৎ করে কাঁকড়া রপ্তানি বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এতে বিপাকে পড়ে মোংলা, বাগেরহাট সহ দেশের ক্ষুদ্র কাঁকড়া ব্যবসায়ীরা।

জেলা মৎস্য অফিসের তথ্যমতে, বাগেরহাটে তিন হাজার ৭৪৮ জন কাঁকড়া চাষি রয়েছেন। আর এক হাজার ৪১০ হেক্টর জমিতে তিন হাজার ৭৭৮টি কাঁকড়ার ঘের রয়েছে। এগুলোতে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দুই হাজার ৬২৯ মেট্রিক টন কাঁকড়া উৎপাদন হয়। দেশে উৎপাদিত শতকরা ৮৫ ভাগ কাঁকড়া চীনে রপ্তানি করা হয়। আর সামান্য পরিমাণ কাঁকড়া তাইওয়ান, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে যায়। বাগেরহাট থেকে প্রতি মাসে গড়ে ২০০ টন কাঁকড়া রপ্তানি হয়। চলমান পরিস্থিতিতে জেলায় এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত ৫০ হাজার ব্যবসায়ী, জেলে এবং শ্রমিক কাঁকড়া শিল্প বন্ধে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

মোংলার কাঁকড়া ব্যবসায়ী শিল্পের সভাপতি বিদ্যুৎ মন্ডল বলেন, হঠাৎ রপ্তানি বন্ধ ঘোষণায় বিপাকে ক্ষুদ্র কাঁকড়া ব্যবসায়ী। লক্ষ লক্ষ টাকার কাঁকড়ার চালান মোংলা থেকে পাঠানো হয়েছে কম্পানিতে, যার মূল্য বাবদ মৃত কাঁকড়া ফেরত এসেছে! কম্পানি কোন মূল্য দিবে না এমন পরিকল্পনা করে, কাঁকড়া গুলো মেরে ফেলে ব্যবসায়ীদের নিকট ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এমতাবস্থায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মাঠে মারা যাওয়া ছাড়া উপায় নেই। কি ভাবে এই দায়দেনা কাটিয়ে উঠবে এমন চিন্তা এখন প্রতিটি কাঁকড়া চাষী ও ব্যবসায়ীদের।

অন্য এক কাঁকড়া ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম বলেন, রপ্তানি বন্ধ থাকার কারণে ঘেরের ও শতকরা ৭০ ভাগ কাঁকড়া মারা গেছে এবং যাচ্ছে। আর যা আছে তাও কয়দিন বিক্রি বন্ধ থাকলে মারা যাবে।

এমতাবস্থায় কাঁকড়া শিল্প বাঁচাতে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। ব্যবসায়ী ও চাষীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান সহ কাঁকড়া শিল্পের নতুন নতুন বাজার ধরার আহ্বান জানান কাঁকড়া চাষী ও ব্যবসায়ীরা।

সুত্রঃ আলোকিত সকাল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *