1. mahbub@krishinews24bd.com : krishinews :

” কৃষি অন্বেষণ”পর্ব-০৬# বিষয়ঃ ব্রাসেলস স্প্রাউট বা বেবি ক্যাবেজ বা মিনি বাধাকপি

  • আপডেট টাইম : Wednesday, October 7, 2020
  • 51 Views
" কৃষি অন্বেষণ"পর্ব-০৬# বিষয়ঃ ব্রাসেলস স্প্রাউট বা বেবি ক্যাবেজ বা মিনি বাধাকপি
" কৃষি অন্বেষণ"পর্ব-০৬# বিষয়ঃ ব্রাসেলস স্প্রাউট বা বেবি ক্যাবেজ বা মিনি বাধাকপি

কৃষিবিদ কামরুল ইসলাম

ব্রাসেলস স্প্রাউট” নামটি বেশ কিছুদিন আগেও অপরিচিত ছিলো, বর্তমানে ফেইসবুকের কল্যাণে এই নামটি অনেকের কাছে পরিচিত হয়ে উঠেছে।ছোট্ট ছোট্ট আকৃতির এই বাধা এক গাছেই অসংখ্য ধরে থাকার ছবি ইতোমধ্যেই ভাইরাল হয়ে গেছে। অনেকের জানার আগ্রহ বেড়েছে অনেকগুণ।
© নতুন এই ফসল বাংলাদেশে হয় কিনা, হলে কোথায় ভালো হবে, বীজ কিভাবে পাবো,ছাদে লাগানো যাবে কিনা ইত্যাদি নানারকম প্রশ্ন উৎসুক মনে উঁকি দিচ্ছে সবার।
© দেখতে ছোট আকৃতির বাধাকপির মতন বলে অনেকে একে শিশু বাধাকপি বা বেবি ক্যাবেজ বলে ডাকে। আসলে এ-র মূল নাম ” ব্রাসলস স্প্রাউট।
© ব্রাসেলস স্প্রাউট মূলত শীতকালীন সবজি। ব্রাসিকা পরিবারের অন্তর্ভুক্ত এ সবজি প্রথম ০৫ ম শতাব্দীতে পূর্ব ইউরোপের দেশ ইতালি বা তার আশেপাশে দেখা যায়। পরবর্তীতে ১৫৮৭ সালে এর বীজ বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে এনে রোপন করা হয়। সেই থেকে ব্রাসেলস স্পাউট নামে এই সবজি পরিচিতি পায়।
ব্রাসেলস স্প্রাউট এর পুষ্টিগুনঃ
—————————————–
© সাধারণ বাঁধাকপির চেয়ে এর খাদ্যগুণ অনেকটাই বেশী, প্রচুর মাত্রায় প্রোটিন ও ভিটামিন এ, বি কমপ্লেক্স( থায়ামিন, রিবোফ্লাভিন, নিয়াসিন), এবং অন্যান্য এন্টি অক্সিডেন্ট এর পরিমানও অনেক বেশী মাত্রায় থাকে।
© ক্যান্সার প্রতিরোধী গ্লুকোসিনোলেটস নামক বায়োকেমিকাল এজেন্ট থাকে।
চাষাবাদ পদ্ধতিঃ
============
ব্রাসেলস স্প্রাউট এর চাষাবাদ পদ্ধতি অনেকটা বাধাকপির মতো। বীজও দেখতে বাঁধাকপির মতো। বীজ থেকে চারা হয়। এ চারা পরবর্তীতে মুল জমিতে লাগাতে হয়।
জলবায়ু ও আবহাওয়াঃ
——————————–
ব্রাসেলস স্প্রাউট শীতকালে সারাদেশে চাষ করা যাবে। এদেশের আবহাওয়া, জলবায়ু, মাটি ও পরিবেশ সম্পূর্ণ এই সবজি চাষের উপযোগী। শীতকালে যদি ১৫-১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমত্রা থাকলে এটি সর্বোচ্চ ফলন দিবে। ০৭-২৪ ডিগ্রি তাপমাত্রায় এই সবজি আবাদ করা যায়।
© এটি শীতকালীন ফসল। তাই শীতকাল যত দীর্ঘ হবে, এ ফসলের ফলন তত বেশী হয়। সে বিবেচনায় দেশের উত্তরাঞ্চল বেশ উপযোগী হতে পারে। তাই আগাম চাষে ফলন অনেক বেশী হবে। তাপমাত্রা যত বাড়বে ততই বাড এর আকার ছোট হয় এবং বাডগুলো তুলনামূলক শক্ত হয়।
জাতঃ
——-
বাংলাদেশে এখনো কোন জাত বের হয়নি, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের প্রফেসর আবুল হাসনাত এম সোলায়মান স্যার ব্রাসেলস স্প্রাউট নিয়ে কাজ করে পজিটিভ রেজাল্ট পেয়েছেন, হয়তো শীঘ্রই তা আমাদের কাছে আসবে বলে আশা রাখতে পারি।
© তবে আমাদের পাশ্ববর্তী দেশের পশ্চিমবংগ, চব্বিশ পরগণায় ব্রাসেলস স্প্রাউটের আবাদ বেশ চোখে পড়ার মত।
© সেখানে হিলস আইডল, অ্যামেজার, অলিভার, রিভাকো পার্ল ক্রিস্টাল, জেড ক্রস প্রভৃতি জাতের ব্রাসেলস স্প্রাউট আবাদ হচ্ছে।
রঙঃ
——
সবুজ, পিংক, রেড, হালকা হলুদ কালারের ব্রাসেলস স্প্রাউট বিভিন্ন দেশে পাওয়া যায়।।
চারা রোপণের সময় ও পদ্ধতিঃ
—————————————–
বাঁধাকপির বীজ বপন করার মুখ্য সময় হলো কার্তিক-অগ্রহায়ণ ( সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর মাস)। আগাম চাষের জন্য ভাদ্র-আশ্বিন মাসে লাগানো যেতে পারে।
© বীজ বপনের জন্য বিঘা প্রতি ৫০-৬০ গ্রাম বীজ লাগে। ৩০-৩৫ দিন বয়সের চারা রোপণ করতে হয়। সারি থেকে সারির দূরত্ব হবে ৬০ সেমি বা ২ ফুট, চারা থেকে চারার দুরুত্ব হবে ৪৫ সেমি বা ১.৫ ফুট। বিকেলে চারা রোপণ করা উচিত।
জমি তৈরিঃ
—————
অন্যান্য কপিজাতীয় ফললের তুলনায় ব্রাসেলস স্প্রাউট এর জীবনকাল দীর্ঘ হওয়ায় সারের মাত্রা একটু বেশী লাগে। ইউরিয়া সার ৩-৪ বারে দিতে হয়। ৪-৫টি আড়াআড়ি ভাবে জমি চাষ দিয়ে আগাছা পরিস্কার করে, মাটি নরম করে জমি তৈরি করতে হয়। মই দিয়ে জমি সমতল করতে হবে।
মালচিং পেপার বিছিয়ে দিলে আরো ভালো ফল পাওয়া
সার প্রয়োগঃ
—————–
জমি তৈরির সময় প্রতি হেক্টরে গোবর ৬ টন গোবর টিএসপি ৯০ কেজি ও এমপি ১২০ মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হয়। প্রতি হেক্টরে ইউরিয়া ১৫০ কেজি লাগে। ইউরিয়া তিনভাগ করে এক ভাগ চারা রোপণের ৭ দিন পর ছিটিয়ে, ২য় ভাগ ২৫ দিন পর ও ৩য় ভাগ ৪০ দিন পর বন্ধনী পদ্ধতিতে গাছের চারদিকে দিতে হয়।
পরিচর্যাঃ
————-
গাছ বড় হওয়ার সাথে সাথে দু’সারির মাঝখান থেকে মাটি তুলে সারি বরাবর আইলের মত করে দিলে স্প্রাউট বড় হয়। পানি জমলে নিকাশ করতে হয়। দ্রুত ফলন পেতে চাইলে চারা লাগানোর দু মাস পর গাছে মাথা ভেঙে দিতে হবে। একে টপিং বলে। টপিং এর ফলে স্প্রাউট এর সংখ্যা কমে গেলেও স্প্রাউট এর আকার ও ওজন বাড়ে। ব্রাসেলস স্প্রাউটে রোগ বালাই অনেকটা বাধাকপির মতো।
জীবনকালঃ
—————-
ফসলের জীবনকাল জাতভেদে ৯০- ১৫০ দিন। সাধারনত দু মাস পর থেকে গাছে স্প্রাউট আসা শুরু হয়।
ফসল তোলার সময়ঃ
—————————-
স্প্রাউট আসার ১৫-২০ দিন পর সংগ্রহ করা যায়। সপ্তাহে ১-২ বার গাছ থেকে স্প্রাউট তোলা যায়।
ফলনঃ
——–
একটি গাছে ৪০-৬০ টি স্প্রাউট হয়। গাছে যতগুলো পাতা থাকবে ততগুলো স্প্রাউট হবে। স্প্রাউটগুলো ৭-১০ সেমি আকারের এবং ওজন ৫০-৭০ গ্রাম হতে পারে।
ছাদে লাগানোর উপযোগি কিনা?
=======================
অবশ্যই, ছাদ বাগানের জন্য উপযোগী এই সবজি গাছের উচ্চতা সর্বোচ্চ ৪.৫ ফিট পর্যন্ত হয়, এবং গাছ লাগানোর ১ -২ মাসের মধ্যে গাছের সর্বাঙ্গ জুড়ে স্প্রাউট( বাড) দেখা দেয়। বাড বের হওয়ার ২৮ দিনের মধ্যে স্প্রাউট হার্ভেস্ট করার উপযোগী হয় এবং প্রায় প্রতিদিন উৎপাদন করা যায়।
© বেশকিছু প্রাইভেট কোম্পানি ও আগ্রহী ব্যক্তিগন ইন্ডিয়াসহ থেকে বিভিন্ন দেশ থেকে বীজ সংগ্রহ করে দেশে চাষাবাদের চেষ্টা করছেন।
সম্ভাবনাময় এই সবজি আবাদের সম্প্রসারণ ঘটলে দেশের পারিবারিক পুষ্টি চাহিদা অনেকটাই পূরণ হব বলে সম্প্রসারণবিদ ও গবেষকগণ মনে করেন।
® ” কৃষি অন্বেষণ ” কৃষি বিষয়ক জ্ঞান অর্জনের একটা উন্মুক্ত প্লাটফর্ম। এখানকার যে কোন লিখার ব্যাপারে গঠনমুলক সমালোচনা বা পরামর্শ বা মতামত দিতে পারেন।

যোগাযোগ————-
কৃষিবিদ কামরুল ইসলাম
৩৫ তম বিসিএস কৃষি
কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার
পুঠিয়া, রাজশাহী

নিউজ টি শেয়ার করে অন্যদের জানার সুযোগ করে দিন...

এ জাতীয় আরো খবর..

© All rights reserved © 2020 krishinews24bd

Site Customized By NewsTech.Com