1. mahbub@krishinews24bd.com : krishinews :

” কৃষি অন্বেষণ”পর্ব-১৬# বিষয়ঃ লাউ গাছে ফলন বৃদ্ধির ১০টি কৌশল

  • আপডেট টাইম : Friday, November 20, 2020
  • 259 Views
" কৃষি অন্বেষণ"পর্ব-১৪#বিষয়ঃ লাউ গাছে ফলন বৃদ্ধির ১০টি কৌশল
" কৃষি অন্বেষণ"পর্ব-১৪#বিষয়ঃ লাউ গাছে ফলন বৃদ্ধির ১০টি কৌশল

কৃষিবিদ কামরুল ইসলাম

© শীতকালীন সবজিগুলোর মধ্যে অন্যতম।
সুস্বাদু সবজি। লাউয়ের লতায় প্রচুর ফুল ধরলেও লাউ ধরে কম। তবে কিছু কৌশল জানা থাকলে অধিকাংশ ফুলেই লাউ পাওয়া যায়। এছাড়াও বিভিন্ন কারণে কচি লাউ ঝরে পড়ে কিংবা পঁচে যায়।
© লাউ একলিঙ্গ এবং ভিন্নবাসী উদ্ভিদ হওয়ায় প্রাকৃতিক পরাগায়ণ কম হয়। আবার পুরুষ ও স্ত্রী ফুল যথাক্রমে রোপণের ৪২-৪৫ দিন এবং ৫৭-৬০ দিনের মধ্যে ফুটে। তাই কৃত্রিমভাবে পুরুষ ফুল এনে স্ত্রী ফুলের সঙ্গে মিলন ঘটাতে হয়।
আসুন আজকে লাউয়ের এসকল সমস্যা ও ফলন বৃদ্ধির কিছু কলাকৌশল জানার চেষ্টা করি…
১) শোষক শাখা অপসারণঃ
===================
গাছের গোড়ার দিকে ছোট ছোট ডালপালা হয়। সেগুলোকে শোষক শাখা বলা হয়। এগুলো গাছের ফলনে এবং যথাযথ শারীরিক বৃদ্ধিতে ব্যাঘাত ঘটায়। কাজেই গাছের গোড়ার দিকে ৪০-৪৫ সেমি. পর্যন্ত ডালপালাগুলো ধারালো ব্লেড দিয়ে কেটে অপসারণ করতে হবে।
২) মৌমাছির কলোনী স্থাপনঃ
====================
ফল ধারণ বৃদ্ধিতে কৃত্রিম পরাগায়ন
লাউয়ের পরাগায়ন প্রধানত মৌমাছির দ্বারা সম্পন্ন হয়। প্রাকৃতিক পরাগায়নের মাধ্যমে বেশি ফল ধরার জন্য হেক্টর প্রতি দুটি মৌমাছির কলোনি স্থাপন করা প্রয়োজন। মৌমাছি মধু সংগ্রহের সময় এক ফুল থেকে আর এক ফুলে উড়ে বেড়ায়, এ-র ফলে পুংরেণু স্ত্রী ফুলের গর্ভাশয়ে পড়ে পরাগায়ন ঘটায়।
৩) হাত পরাগায়নঃ
=============
নানা কারণে লাউয়ের সব ফুলে প্রাকৃতিক পরাগায়ন ঘটে না এবং এতে ফলন কমে যায়। হাত দিয়ে কৃত্রিম পরাগায়ন করে লাউয়ের ফলন শতকরা ৩০-৩৫ ভাগ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা সম্ভর।
© লাউয়ের ফুল ঠিকমতো রোদ পেলে দুপুরের পর থেকে ফোটা শুরু হয়ে রাত ৭-৮টা পর্যন্ত ফোটে। কৃত্রিম পরাগায়ন ফুল ফোটার দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত এবং পরদিন সকাল পর্যন্ত করা যায়। তবে পরদিন সকালে পরাগায়ন করলে ফল কম ধরে কিন্তু ফুল ফোটার দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত যে কয়টা ফুলে পরাগায়ন করা হয় তার সবটিতেই ফল ধরবে।
হাত পরাগায়নের নিয়মঃ
=================
ফুল ফোটার পর পুরুষ ফুল ছিঁড়ে ফুলের পাপড়ি অপসারণ করা হয় এবং ফুলের পরাগধানী (যার মধ্যে পরাগরেণু থাকে) আস্তে করে স্ত্রী ফুলের গর্ভমুণ্ডে (যেটি গর্ভাশয়ের পেছনে পাপড়ির মাঝখানে থাকে) ঘষে দেয়া হয়। একটি পুরুষ ফুল দিয়ে ২-৪টি স্ত্রী ফুলে পরাগায়ন করা যায়।
৪) লাউ গাছে ২ জি বা ৩ জি বা ৪ জি কাটিংঃ
===============================
2G, 3G,4G দিয়ে বুঝায় মূলত সেকেন্ড জেনারেশন, থার্ড জেনারেশন, ফোর্থ জেনারেশন।
© বীজ থেকে যে কান্ড বের হয় তার নাম 1গ
© 1Gকাটার পর যেই শাখা বের হবে তার নাম 2G
© 2Gকাটার পর যেই শাখা বের হবে তার নাম 3G
® একটি লাউ গাছের প্রধান কান্ড বা স্টেম হলো ফার্স্ট জেনারেশন। প্রধান কান্ড থেকে বের হওয়া শাখা কান্ড হলো সেকেন্ড জেনারেশন। আর সেকেন্ড জেনারেশন কান্ড থেকে বের হওয়া প্রশাখা হলো থার্ড জেনারেশন। একেই ভাবে 3G থেকে বের হয় 4G .
© লাউ গাছের অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য হলো এর প্রধান কাণ্ডে কখনোই স্ত্রী ফুল হয় না, সবসময় পুরুষ ফুল হয়। তাই দেখা যায় যে, গাছে শুধু প্রধান কান্ড থাকলে সেই গাছে ফল হয় না।
© এজন্য যখন গাছে প্রধান কাণ্ডে ১২ টি পাতা হয়ে যাবে তখন গাছের মাথা কেটে দিন। এতে গাছ আর লম্বা না হয়ে শাখা প্রশাখা বের করার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়বে। তখন দেখা যাবে যে 2G শাখার বৃদ্ধি হতে থাকবে এবং পুরুষ ফুল এর পাশাপাশি স্ত্রী ফুল থাকবে।।
© আবার যখন 2G শাখা ১২ টি পাতা হয়ে যাবে তখন সেই 2G শাখার মাথা কেটে দিলে সেই 2G শাখা থেকে 3G শাখা বের হবে। তখন স্ত্রী ফুলের ফলন বাড়বে।
© 2G কাটিং থেকে 3G কাটিং দেওয়ার সময় কিছু 2G রেখে দেবেন কারণ 2G যে পুরুষ ফুলগুলো থাকবে তা দিয়ে 3G এর স্ত্রী ফুলকে পরাগায়নে সহায়তা করবে। যখন মন মতো স্ত্রী ফুল পেয়ে যাবেন তখন প্রধান কাণ্ডে থাকা পুরুষ ফুল এর সাথে হাত পরাগায়ন করে দিবেন। আর যদি 3G কাটিং এ মন মতো স্ত্রী ফুল না পান তাহলে 4G কাটিং করে দিবেন একেই পদ্ধতি অবলম্বন করে।
সতর্কতাঃ
————
কাটিং এর সময় অবশ্যই জীবাণুমুক্ত ব্লেড অথবা ছুরি ব্যবহার করতে হবে যাতে ছত্রাক আক্রমণ না ঘটে।
৫) সার প্রয়োগঃ
===========
গর্ভাশয় ঝরে পড়াকে অনেকেই মনে করে কচি লাউ ঝরে পড়ে। আসলে যেসব স্ত্রী ফুল পুংরেণু দ্বারা নিষিক্ত হয় না সেগুলো ঝরে পড়ে। এজন্য কৃত্রিম পরাগায়ণ করাতে হবে। এরপরেও ঝরে পড়লে গাছের গোড়ায় নিয়মিত পানি দিতে হবে। গাছ প্রতি ৫০ গ্রাম করে টিএসপি ও এমপি সার গাছের গোড়া থেকে ৬ ইঞ্চি দূর দিয়ে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে হবে।
৬) বালাইনাশক প্রয়োগঃ
================
কচি লাউ পচে যাওয়ার কারণ হচ্ছে ফ্রুট ফ্লাই পোকা কচি লাউয়ে ক্ষত সৃষ্টি করে। এ ক্ষতে ব্যাকটেরিয়া আক্রমণ করে লাউ পচিয়ে ফেলে। এ পোকা হাত দ্বারা মারা যায়। ছাই দেওয়া যেতে পারে। ডায়াজিনন বা ডাইমেক্রন বা নগস দিতে পারেন।
৭) পরিমিত জৈব সার প্রয়োগঃ
====================
লাউ লতা খুব বড় হয় কিন্তু ফুল কম ধরে। এ জন্য জৈব সার বেশি না দিয়ে সুনির্দিষ্ট পরিমাণে দিতে হবে। টিএসপি ও এমপি সার সম্পূর্ণ মাত্রায় দিতে হবে।
৮) হরমোন প্রয়োগঃ
=============
ফল ঝড়ে পড়া রোধে বিভিন্ন গ্রোথ হরমোন স্প্রে করা যেতে পারে।
৯) পিঁপড়ার আক্রমণ থেকে ফল রক্ষা করাঃ
==============================
ফুলের মধ্যে পিঁপড়া আক্রমণ করলে ছাই অথবা সেভিন দিতে পারেন।
১০) ইঁদুর দমনঃ
===========
ইঁদুরের আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য বিষটোপ অথবা ফাঁদ দিতে পারেন।

যোগাযোগ————-
কৃষিবিদ কামরুল ইসলাম
৩৫ তম বিসিএস কৃষি
কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার
পুঠিয়া, রাজশাহী

নিউজ টি শেয়ার করে অন্যদের জানার সুযোগ করে দিন...

এ জাতীয় আরো খবর..

© All rights reserved © 2020 krishinews24bd

Site Customized By NewsTech.Com