1. mahbub@krishinews24bd.com : krishinews :
শিরোনাম
কানাইঘাটের কৃষিতে আধুনিক ও যুগোপযোগী সংযোজন সমলয় কর্মসূচি পরির্দশনে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সিলেটের  উপ-পরিচালক প্রাণ এগ্রোর বন্ডে বিনিয়োগ নিরাপদ: শিবলী আখের দাম পরিশোধে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ পেলো বিএসএফআইসি ৩০৭ কোটি টাকায় ৬০ হাজার টন টিএসপি ও ইউরিয়া সার কিনবে সরকার রাজবাড়ীতে হালি পেঁয়াজ চাষে ব্যস্ত কৃষকরা কৃষি নিউজ এর পক্ষ থেকে মহান বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা। বেতাগীতে মাঠ ভরা আমনের সবুজ ধানে দোল খাচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন শায়েস্তাগঞ্জে ১৩০০ কৃষক পেলেন সরকারি প্রণোদনা ‘কৃষিপণ্য রফতানির ক্ষেত্রে পূর্বশর্ত পূরণে কাজ করছে সরকার’ দেশে দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা নেই: খাদ্যমন্ত্রী

‘ঢলন’প্রথামুক্ত হলো রাজশাহীর বানেশ্বর হাট, খুশি আমচাষিরা

  • আপডেট টাইম : Saturday, October 24, 2020
  • 348 Views
‘ঢলন’প্রথামুক্ত হলো রাজশাহীর বানেশ্বর হাট, খুশি আমচাষিরা
‘ঢলন’প্রথামুক্ত হলো রাজশাহীর বানেশ্বর হাট, খুশি আমচাষিরা

নিউজ ডেস্কঃ

রাজশাহী তথা উত্তরাঞ্চলের সবচেয়ে বড় আমের হাট বসে পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর বাজারে। মূলত আমের ব্যবসা ঘিরে বাজারটি গড়ে উঠেছে বহুসংখ্যক আড়ত। স্থানীয় আমচাষিরা এসব আড়তে আম বিক্রি করে থাকেন। আড়তগুলো পাইকারি দরে আম কেনার সময় এক মণে ধরতো ৪৬ কেজি। ৪০ কেজির অতিরিক্ত আম বা কৃষিপণ্যকে ধরা হতো ‘ঢলন’ হিসেবে।

অলিখিত ঢলনের হিসেব বানেশ্বর হাটে রীতিমতো প্রথা হয়ে উঠেছিল। বিগত তিন দশক ধরে এ প্রথা চলে আসছিল। এতে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিলেন চাষিরা। তবে ৩০ বছর পর অবশেষে সেই ঢলন প্রথা বিলুপ্ত করা হলো। এখন থেকে ৪০ কেজিতেই আমসহ সব কৃষিপণ্যের এক মণ ওজন হবে। অতিরিক্ত কেউ নিতে পারবেন না।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে বানেশ্বর বাজার বণিক সমিতির কার্যালয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী, চাষি, জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিশেষ সভায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ডা. মুনসুর রহমান।

বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান জিএম হিরা বাচ্চু, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুরুল হাই মোহাম্মদ আনাছ, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুমানা আফরোজ ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সামশুন নাহার ভুঁইয়া। সভায় স্থানীয় চাষি এবং ব্যবসায়ীরাও উপস্থিত ছিলেন।

সভায় চাষিরা বলেন, প্রায় ৩০ বছর ধরেই তাদের এক মণে অতিরিক্ত আম ব্যবসায়ীদের দিতে হয়। দিতে না চাইলে তার আম বিক্রি হতো না। তারা আড়তদারদের কাছে জিম্মি। প্রায় তিন দশক ধরে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আসছেন। তারা এই ‘ঢলন’ প্রথা বাতিলের দাবি জানান।

তবে সভায় আড়তদার ও পাইকারি ব্যবসায়ীরাও তাদের পক্ষে বিভিন্ন যুক্তি দাঁড় করানোর চেষ্টা করেন। তবে তা ধোপে টেকেনি। ইউএনও সিদ্ধান্ত দেন- এখন থেকে সব পণ্যের এক মণ হবে ৪০ কেজিতে। এর বেশি নেওয়া যাবে না।

ঢলন প্রথা বাতিলে বানেশ্বর বাজার বণিক সমিতির কার্যালয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী, চাষি, জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিশেষ সভা
পুঠিয়ার ইউএনও নুরুল হাই মোহাম্মদ আনাছ বলেন, তিনি অল্পদিন আগেই পুঠিয়ায় যোগ দিয়েছেন। সেখানে গিয়েই চাষিদের কাছ থেকে এ বিষয়টি শোনেন। চাষিরা এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য তাকে অনুরোধ করেন। তিনি বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, কৃষি কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলেন। এরপরই এই সভার আয়োজন করা হয়।

ইউএনও জানান, সারাদেশে ৪০ কেজিতে এক মণ। ব্যতিক্রম ছিল বানেশ্বর বাজার। অথচ এই বাজারেই রাজশাহীর মধ্যে সবচেয়ে বড় আমের হাট বসে। এখানে চাষিরা বছরের পর বছর ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আসছিলেন। এক মণের জন্য আমের ওজন নেওয়া হতো ৪৬ কেজি। পেঁয়াজসহ অন্যান্য কৃষিপণ্যের এক মণ হতো ৪২ কেজিতে। সেই প্রথা বাতিল করা হলো। এখন থেকে সব পণ্যের এক মণ হবে ৪০ কেজিতে। এটি নিশ্চিত করতে আমাদের ভ্রাম্যমাণ আদালত থাকবে।

এদিকে, ঢলন প্রথা বাতিলে প্রশাসনের সিদ্ধান্তে খুশি স্থানীয়রা চাষিরা। উপজেলার ঝলমলিয়া এলাকার চাষি আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমি ২০ বছর ধরে বাগান ইজারা নিয়ে আমচাষ করছি। সবসময় ৪৬ কেজিতে মণ ধরা হতো। ৬ মণ আম বিক্রি করলে এক মণ ঢলন দিতে হতো। খুব খারাপ লাগতো। তবে কিছু করার ছিল না। ঢলন না দিলে বিক্রি হতো না। এতোদিন পর ঢলন প্রথা বাতিল হওয়ার খবর শুনে খুশি লাগছে।

তবে ঢলন বাতিল হওয়ায় মনোক্ষুণ্ন আড়তদারেরা। বানেশ্বর বাজার বণিক সমিতির কার্যকরি কমিটির সদস্য ওসমান আলী বলেন, ঢাকায় নেওয়ার পথে অনেক সময় আম পঁচে যায়। এজন্য ছয় কেজি বেশি নেয়া হতো। সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে- এক মণ পণ্যের ওজন ৪০ কেজিই হবে। কিছু করার তো নেই, সেটাই মেনে চলতে হবে।
সুত্রঃ বার্তা ২৪

নিউজ টি শেয়ার করে অন্যদের জানার সুযোগ করে দিন...

এ জাতীয় আরো খবর..

© All rights reserved © 2020 krishinews24bd

Site Customized By NewsTech.Com