তিস্তার চরের কৃষকরা আসছে প্রণোদনার আওতায়তিস্তার চরের কৃষকরা আসছে প্রণোদনার আওতায়

বন্যা, নদীভাঙন, অভাব-অনটনের পর চরে ফসল চাষ করে নিজেদের ভাগ্য বদলেছে শত শত পরিবার। নদীভাঙন কবলিত রংপুরের প্রত্যন্ত অঞ্চলের এসব মানুষের অক্লান্ত পরিশ্রমে ১ লাখ লাখ ৯১ হাজার হেক্টর ধু-ধু বালুচর রূপ নিয়েছে সবুজের সমারোহে। এমনকি চরাঞ্চলের কৃষকদের আনা হচ্ছে প্রণোদনার আওতায়, দেওয়া হচ্ছে সার-বীজ।
চরের কৃষকরা জানান, তারা জমির উপর থেকে বালুর স্তূপ সরিয়ে সেখানে চাষ করেছেন বিভিন্ন জাতের সবজি। নিজেদের ভাগ্য বদলের জন্য দিন-রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তারা। আর তাদের সহযোগিতা করছে পরিবারের সদস্যরা।

রংপুর আঞ্চলিক কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলায় তিস্তা নদীর ১ হাজার ৩৭৬টি চরে ১ লাখ ৯১ হাজার হেক্টর জমি রয়েছে। এসব জমিতে চাষ করা হচ্ছে গম, ভুট্টা, চিনাবাদাম, মিষ্টি কুমড়া, বেগুন, ফুলকপি, বাঁধাকপি, স্কোয়াশ, মটরশুঁটি, পেঁয়াজ, মরিচ, রসুন, কালোজিরা, সূর্যমুখী, সরিষা, কলা, আলু, তিল, মেথি, মসুর ডালসহ ২৮ প্রকার ফসল।

এর মধ্যে রংপুরের কাউনিয়া, গংগাচড়া, পীরগাছা উপজেলায় ৬৭টি চরে ৭ হাজার ৯৬৮ হেক্টর, গাইবান্ধার ৬টি উপজেলার ১৬০টি চরে ৩১ হাজার ৬৫৮ হেক্টর, কুড়িগ্রামের ৯টি উপজেলার ৩৬৮টি চরে ৫৪ হাজার ২৯৮ হেক্টর, লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলার ৫৯টি চরে ৮ হাজার ৫৭১ হেক্টর এবং নীলফামারীর ৩টি উপজেলার ৩৪টি চরে ৩ হাজার ৪৩ হেক্টর জমিতে এসব ফসল ফলাচ্ছেন কৃষকরা।

রংপুরের হারাগাছ পৌর এলাকার মিলনের চরের কৃষক আবু আলী জানান, এবার চরের দেড় একর জমিতে পেঁয়াজ, আলু, কুমড়া, মরিচ চাষ করেছেন। এতে খরচ কম ও বেশি লাভ হয়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত উপপরিচালক মাহবুবার রহমান জানান, চরের কৃষকদের নানাভাবে সহযোগিতা করা হচ্ছে। তাদের প্রণোদনার আওতায় আনা হচ্ছে। দেওয়া হচ্ছে সার-বীজ। এছাড়া যখন যে সমস্যা দেখা দিচ্ছে- তাৎক্ষণিক তা সমাধান করা হচ্ছে।

সুত্রঃ ডেইলি বাংলাদেশ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *