ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান ব্যর্থধান-চাল সংগ্রহ অভিযান ব্যর্থ

সাইফুল ইসলাম, সালথা (ফরিদপুর)

নির্ধারিত সময়ের পর ১৫ দিন বাড়িয়েও সালথায় এ বছর বোরো মৌসুমের এক কেজি ধান-চালও সংগ্রহ করতে পারেনি খাদ্য বিভাগ। চুক্তি করার পরও চালকল মালিকরা চাল সরবরাহ না করায় ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান ব্যর্থ হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ইসমাইল হুসাইন।

তিনি জানান, ধান সংগ্রহের জন্য সালথা উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে লিফলেট বিতরণ ও মাইকিং করা হয়েছে। এছাড়া চাল সরবরাহের জন্য উপজেলার ৩ চালকল মালিকের সঙ্গে চুক্তি করে সরকার। চুক্তি অনুযায়ী চালকল মালিকরা সরকারি গুদামে এক কেজি চালও সরবরাহ করেননি।

তবে চালকল মালিকদের ভাষ্য, সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বাজারে চালের দাম বেশি হওয়ায় তারা গুদামে চাল সরবরাহ করতে পারেননি। অন্যদিকে খাদ্য অধিদপ্তর বলছে, যারা চুক্তি অনুযায়ী চাল সরবরাহ করেননি তাদের বিরুদ্ধে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এ বছর বোরো মৌসুমে ২৬ টাকা দরে উপজেলায় ৬২৩ টন ধান এবং ৩৬ টাকা দরে ৩৪০ টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে এপ্রিল মাসের ১৫ তারিখ থেকে অভিযান শুরু হয়। চলে ৩০ জুন পর্যন্ত। তবে নির্ধারিত সময়ে ধান-চাল সংগ্রহ না হওয়ায় ১৫ দিন সময় বাড়িয়ে ১৫ জুলাই পর্যন্ত অভিযান চালানো হয়। এরপরও এক কেজি ধান-চালও সংগ্রহ করতে পারেনি খাদ্য বিভাগ।

উপজেলা চালকল মালিকদের সভাপতি নুরু মাতুব্বরের দাবি, সংগ্রহ অভিযান ব্যর্থ হওয়ার জন্য খাদ্য বিভাগেরও দায় আছে। তিনি সমকালকে বলেন, লোকসানের আশঙ্কায় অনেক চালকল মালিকই চুক্তি অনুযায়ী ৩৬ টাকা দরে চাল সরবরাহ করতে পারেননি। মিলাররা ক্রয়মূল্য বাড়ানোর জন্য বারবার খাদ্য বিভাগের কাছে দাবি করলেও কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

এদিকে কৃষকদের অভিযোগ, নানা অজুহাত দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে ধান ক্রয় করা হচ্ছে না। এ উপজেলায় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ধান সংগ্রহ করা হয়। কৃষকরা ধান বিক্রি করতে গেলে, নানা অজুহাত দেখিয়ে তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়। তাই এবার কৃষকরাও সিন্ডিকেটের কাছে ধান বিক্রি করেননি। এ কারণে এ বছর উপজেলা থেকে খাদ্য অধিদপ্তর এক কেজি ধানও ক্রয় করতে পারেনি। আবার অনেক কৃষক সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বাজারে ধানের দাম বেশি পেয়ে বাজারেই ধান বিক্রি করছেন।

ক্রয়মূল্য বাড়ানোর ব্যাপারে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ইসমাইল হুসাইন বলেন, এটি সরকারিভাবে নির্ধারণ করা হয়, ফলে দাম বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। তবে কৃষকের অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *