1. mahbub@krishinews24bd.com : krishinews :

বৃক্ষ রোপণ একটি সর্বজনীন ইবাদাতঃ ধর্মতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ

  • আপডেট টাইম : Tuesday, July 14, 2020
  • 205 Views

কৃষিবিদ কামরুল ইসলাম

অন্ধ ভূমিগর্ভ হতে শুনেছিলে সূর্যের আহ্বান
প্রাণের প্রথম জাগরণে , তুমি বৃক্ষ , আদিপ্রাণ ;
ঊর্ধ্বশীর্ষে উচ্চারিলে আলোকের প্রথম বন্দনা
ছন্দোহীন পাষাণের বক্ষ- পরে ; আনিলে বেদনা
নিঃসাড় নিষ্ঠুর মরুস্থলে ।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বৃক্ষ পরিবেশ ও প্রকৃতি জীবজগতের পরম বন্ধু। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি মানুষের জীবন ও জীবিকা নির্বাহে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বৃক্ষ। দৈনন্দিন জীবনে আমাদের বেঁচে থাকার জন্য অতি জরুরি অক্সিজেন আসে বৃক্ষ থেকে। বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, খরা, ঘূর্ণিঝড়, অতিবৃষ্টি ও খরা প্রতিরোধে বৃক্ষের ভূমিকা অনস্বীকার্য। মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত বৃক্ষের অবদান অপরিসীম। বৃক্ষ ছাড়া আমাদের পৃথিবীতে বসবাস চিন্তা করা যায় না। পৃথিবীতে মানুষের খাদ্য, ঔষধ, বস্ত্র, ঘরবাড়ি তৈরি, মাটির ক্ষয়রোধ, আবহাওয়া ও জলবায়ু সঠিক রাখা, পরিষ্কার পানি প্রবাহ নিশ্চিত করা, কৃষি জমির উৎপাদন বৃদ্ধি করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে মানুষের কল্যাণ সাধন ও বেকারত্ব দূর করা ক্ষেত্রে বৃক্ষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গাছ না থাকলে পৃথিবীর মধ্যে বন ও বন্যপ্রাণী থাকতো না। তাই বৃক্ষহীনতা যেকোনো দেশের জন্য, যেকোনো জাতির জন্য অভিশাপ স্বরূপ।
একটি গাছ ১ বছরে আমাদের যা দেয় তা হলো ১০টি এয়ারকন্ডিশনার সমপরিমাণ শীততাপ তৈরি করে, ৭৫০ গ্যালন বৃষ্টির পানি শোষণ করে এবং ৬০ পাউন্ডের বেশি ক্ষতিকারক গ্যাস বাতাস থেকে শুষে নেয়। ১ গ্রাম পানি বাষ্পীভবনে ৫৮০ ক্যালরি সৌরশক্তি ব্যয় হয়। ১টি বড় গাছ দিনে ১০০ গ্যালন পানি বাতাসে ছেড়ে দেয়। ১ হেক্টর সবুজ ভূমি থেকে উদ্ভিদ প্রতিদিন গড়ে ৯০০ কেজি কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে এবং ৬৫০ কেজি অক্সিজেন দেয় সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়াকালে। ১টি মাঝারি আকৃতির আমগাছ ৪০ বছরে ১৪ লাখ টাকা মূল্যের অক্সিজেন তৈরি করে। ৫ হেক্টর পরিমাণ বনভূমি থাকলে এলাকার ৩-৪ ডিগ্রি তাপমাত্রা কমে যায়, ভূমিক্ষয় রোধ এবং বাতাসে আর্দ্রতা বাড়ায়। বৃক্ষরাজি ৮৫-৯০% শব্দ শোষণ করে, শব্দ দূষণ থেকে আমাদের রক্ষা করে।
ভারতের কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক টি এম দাস ১৯৭৯ সালে পূর্ণবয়স্ক একটি বৃক্ষের অবদান আর্থিক মূল্যে বিবেচনা করে দেখান যে ৫০ বছর বয়সী একটি বৃক্ষের অর্থনৈতিক মূল্য প্রায় এক লাখ ৮৮ হাজার মার্কিন ডলার (সূত্র : ইন্ডিয়ান বায়োলজিস্ট, ভলিয়ম-১১, সংখ্যা-১-২)
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় শতকরা ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা প্রয়োজন। পর্যাপ্ত বনভূমি না থাকায় আমরা যে সমস্যাগুলোর মধ্যে রয়েছি তা হচ্ছে বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়ছে এবং উত্তরাঞ্চল মরুময় হয়ে যাচ্ছে। কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে অনেক বাড়ছে, বাতাসে জীববৈচিত্র্যের জন্য ক্ষতিকর ক্লোরোফ্লোরো কার্বন, মিথেন ও নাইট্রাস অক্সাইডের পরিমাণ অনেক বেড়ে যাচ্ছে। বায়ুমন্ডলে ওজন স্তরে ফাটল সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে ক্ষতিকর অতি বেগুনি রশ্মি পৃথিবীতে চলে আসছে। তাপমাত্রা বাড়ার সাথে সাথে মেরু অঞ্চল, এন্টার্টিকা মহাদেশের বরফ গলে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বেড়ে যাচ্ছে। ফলে মরুময়তা, রাজশাহী বরেন্দ্র অঞ্চলে অনাবৃষ্টি, অসময়ে বৃষ্টি, অতিবৃষ্টি, প্লাবন, দেরিতে বৃষ্টি হচ্ছে। জলবায়ুর পরিবর্তন হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আগামী ২ দশকের মধ্যে বিশ্বের ৬০০ মিলিয়ন মানুষ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বর্তমানে বার্ষিক ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ১২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০৩০ সাল নাগাদ বেড়ে হবে ৩৪০ বিলিয়ন ডলার। গবেষকদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম।
গাছ একটি আমানত, পরিবারের রক্ষা কবজ। বৃক্ষ সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত এক অমূল্য সম্পদ। বিশ্বের প্রতিটি ধর্মেই বৃক্ষরোপণ একটি পূণ্য কাজ বলে বর্ণিত হয়েছে। প্রত্যেক ধর্মের মনীষীরা বৃক্ষরোপণের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে একে স্বর্গীয় কাজ বলে অভিহিত করে গেছেন। বিশ্বের বিভিন্ন ধর্মের পবিত্র গ্রন্থাবলী বিশ্লেষণ করলে আমরা বৃক্ষরোপণকে এবাদাত বা পবিত্র কাজ হিসেবে পাই।
বৃক্ষরাজি নিয়ে পবিত্র ইসলাম ধর্মের বর্ণনা
আল্লাহ তাআলা মানুষের প্রয়োজনীয় জীবনোপকরণ হিসেবে ফলবান বৃক্ষরাজি ও সবুজ-শ্যামল সৃষ্টি করেছেন। বনভূমির মাধ্যমে পৃথিবীকে সুশোভিত ও অপরূপ সৌন্দর্যমণ্ডিত করেছেন। গাছপালার মাধ্যমে ভূমণ্ডল ও পরিবেশ-প্রাকৃতিক ভারসাম্য সংরক্ষণের শিক্ষা দিয়েছেন।
পবিত্র কোরআনে তাই ঘোষণা এসেছে—‘আমি ভূমিকে বিস্তৃত করেছি ও তাতে পর্বতমালা স্থাপন করেছি এবং তাতে নয়নাভিরাম সর্বপ্রকার উদ্ভিদ উদ্গত করেছি। আর আমি আকাশ থেকে কল্যাণময় বৃষ্টিবর্ষণ করি এবং এর দ্বারা উদ্যান ও পরিপক্ব শস্যরাজি উদ্গত করি, যেগুলোর ফসল আহরণ করা হয়।’ (সুরা কাফ, আয়াত: ৭-৯)
বৃক্ষরাজি যে কত বড় নিয়ামত, পবিত্র কোরআনের একাধিক আয়াতের মাধ্যমে তা প্রতীয়মান হয়। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন—‘তারা কি লক্ষ করে না, আমি ঊষর ভূমির ওপর পানি প্রবাহিত করে তার সাহায্যে উদগত করি শস্য, যা থেকে তাদের গবাদি পশু এবং তারা নিজেরা আহার গ্রহণ করে।’ (সুরা সাজদা, আয়াত: ২৭)
মহানবী সা. নিজ থেকে গাছ রোপণ করেছেন। হাদিসে এসেছে, ‘যদি কোনো মুসলমান একটি বৃক্ষ রোপণ করে অথবা কোনো শস্য উৎপাদন করে এবং তা থেকে কোনো মানুষ কিংবা পাখি অথবা পশু ভক্ষণ করে, তবে তা উৎপাদনকারীর জন্য সদকা (দান) স্বরূপ গণ্য হবে।’ (বুখারি, হাদিস: ২৩২০, মুসলিম, হাদিস: ১৫৬৩/১২)
অন্য হাদিসে বলা হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি কোনো বৃক্ষ রোপণ করে, আল্লাহ তাআলা এর বিনিময়ে তাকে ওই বৃক্ষের ফলের সমপরিমাণ প্রতিদান দান করবেন।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ২৩৫৬৭)
আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যা করতে নির্দেশ দিয়ে মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যদি নিশ্চিতভাবে জানো যে কিয়ামত এসে গেছে, তখন হাতে যদি একটি গাছের চারা থাকে, যা রোপণ করা যায়, তবে সেই চারাটি রোপণ করবে।’ (বুখারি, আদাবুল মুফরাদ: ৪৭৯; মুসনাদ আহমদ, হাদিস: ৩/১৮৩)
বিনা প্রয়োজনে গাছ কাটার শাস্তির ব্যাপারে বলা হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি বিনা প্রয়োজনে গাছ কাটবে (যে গাছ মানুষের উপকার করতো), আল্লাহ তার মাথা আগুনের মধ্যে নিক্ষেপ করবেন।’ (বায়হাকি, হাদিস: ৬/১৪০)
মানুষের জীবনে বৃক্ষের গুরুত্ব সম্পর্কে সনাতন ধর্মের পবিত্র বেদের বানী
নিম্নলিখিত বেদমন্ত্র গুলোতে মানুষের জীবনে বৃক্ষের ভেষজ গুণাবলী সম্বন্ধে জানতে পারি –
ঋগ্বেদ ১০.৯৭.৩
“হে ভেষজ লতাগুল্ম জীবগনের সুস্বাস্থ্য বৃদ্ধিতে সদা বর্ধিত হও, উদ্যত ও আনন্দিত হও, পুষ্পবতী ও সুগন্ধী হয়ে, ফলবতী হয়ে, আনন্দময় প্রফুল্ল জীবনীশক্তির ন্যায় বিজয়ী, তুমি আমাদিগকে সকল রোগ ও দূর্ভোগ অতিক্রম করাও”
ঋগ্বেদ ১০.৯৭.৪
“হে জননীস্বরূপা ওষুধীগন, তোমরা প্রকৃতির পবিত্র দান, এভাবেই আমি আত্মবিশ্বাসের সহিত তোমার কথা বলি এবং আহবান করি : হে মনুষ্য (তোমার) ঘোড়া, গাভী, বাসগৃহ, এমনকি তোমার শরীর, মন ও আত্মার সুস্বাস্থ্যের জন্য ভেষজ উদ্ভিদের প্রতি আমি বিশ্বাস স্থাপন করি”
ঋগ্বেদ ১০.৯৭.৬
“যেখানে (চিকিৎসা) পরামর্শে ভেষজ লতাগুল্ম এবং ওষুধকে প্রধান নিয়ন্তা হিসেবে একত্রিত হয়, সেই জ্ঞানীগনকে ভিষক বলা হয়, তারা অশুভ নাশকারী, রোগ এবং দূর্বল স্বাস্থ্যের নাশকারী”
ঋগ্বেদ ১০.৯৭.৭
“রোগাক্রান্তদের নিরাময় ও পুর্নবাসনের জন্য, এবং ভবিষ্যতে পীড়া হতে তার মুক্তির জন্য, আমি জানি এবং সকল ভেষজ ওষুধ সরবরাহ করতে পারি যেমনঃ অশ্বাবতী, সোমাবতী,উর্জয়ন্তি এবং উদোজস এবং অন্যান্য”
ঋগ্বেদ ১০.৯৭.৯
“হে ভেষজ লতাগুল্ম, তোমার মাতার নাম ইষ্কৃতি, (তুমি) সুস্বাস্থ্য, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা ও সুরক্ষাস্বরূপ ৷ খাদ্য,পৃথিবী ও প্রকৃতির অবদান ৷ এবং তুমি বিশোধক ও রক্ষাকর্তা ৷ বাহিত হও শিরা উপশিরায় ৷ শরীর হতে সকল অসুস্থতা বাইরে নিক্ষেপ কর”
ঋগ্বেদ ১০.৯৭.১২
“হে ভেষজ লতা, অসুস্থকে সুস্থ কর যার শরীরে তুমি ছড়িয়ে আছ অংশ অংশ জুড়ে, সন্ধিতে সন্ধিতে, রোগসমূহকে থামিয়ে দাও এবং ছুড়ে ফেলে দাও তীক্ষ্ণ ও আগ্রাসী মধ্যস্থতাকারীর ন্যায়”
এছাড়া আরো অনেক অনেক বেদ মন্ত্র আছে যেখানে মানুষের জীবনে বৃক্ষের ভেষজ গুণাবলী সম্বন্ধে জানতে পারি এই বেদ থেকে।

বৌদ্ধধর্মের সাথে পরিবেশের সম্পর্ক গভীর
বৌদ্ধধর্মের উৎপত্তির ভিত্তি প্রকৃতি ও পরিবেশ। গৌতম বুদ্ধের জন্ম রাজপ্রাসাদে নয় লুম্বিনী বনের শালবৃক্ষের নিচে। জন্মগ্রহণ করেই তিনি প্রকৃতিকে আলিঙ্গন করেছেন। শুধু তাই নয় শৈশবে, কৈশোরে তাঁকে দেখা গেছে প্রকৃতির সঙ্গে মিশতে এবং প্রকৃতি থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে। এমনকি রাজপুত্র হয়েও প্রকৃতি ও পরিবেশের সাথে ছিল তাঁর গভীর বন্ধুত্ব। অনেক সময় রাজপ্রাসাদের নানা অনুষ্ঠানে তাঁকে দেখা যায়নি। তাঁকে দেখা গেছে তখন রাজ উদ্যানে কোন গাছের নিচে কিংবা হ্রদের পাশে বসে একান্ত মনে ধ্যান করতে। গৃহত্যাগের পর যখন তিনি দুঃখ মুক্তির সন্ধান করে যাচ্ছেন কোনো না কোনো বৃক্ষের নিচে। এভাবে গৌতম পরিবেশ ও প্রকৃতিকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন। প্রকৃতির সাথে নিজেকে একাত্ম করে নিয়েছেন। তাই তাঁর ধর্ম প্রচারের প্রথম থেকেই প্রকৃতি ও পরিবেশের বহু উপাদানের উপস্থিতি দেখা যায়।
যেমন-তিনি বলেছেন, কোন গাছের শিকড় যদি ভেঙ্গে গেলেও তার শিকড় থেকে গাছ আবার বেড়ে উঠে। তেমনি মানুষের লোভ যদি ধ্বংস করতে না পারে তাহলে বিভিন্ন সময়ে লোভ নামক শত্রুটি বেড়ে উঠে। এতে মানুষের অনেক ক্ষতি করতে পারে। ঘাস ও আগাছার কারণে যেমন জমি অনুর্বর হয়। আর মানুষের অন্তর কলুষিত হয় রাগ, লোভ ও হিংসার কারণে।
বুদ্ধের সময়েও বৃক্ষরোপণের প্রবণতা ছিল। ধ্যানের জন্য নির্জন বন ও শান্ত পরিবেশ উত্তম। রাজা ও শ্রেষ্ঠীগণ নানা বিহার ও আবাস নির্মাণ তৈরি করেছিলেন ছায়া ঘেরা বন-বনাঞ্চলে। যেমন জেতবন বিহার, বিশাখারাম, আম্রকানন বিহার, বেণুবন বিহার প্রভৃতি। এই সব বিহারের সাথে উদ্যান, পুকুর, পানীয় জলের কূপ থাকত। সেই সাথে পুরো বিহার এলাকায় থাকত নানা রকমের গাছপালা। প্রার্থনা হলের সামনে থাকত নানা জাতের ফুলের বাগান। এছাড়া নানা রকম ঔষধি গাছের লতা-পাতা, গুল্ম, ফুল-ফলাদিও থাকত। কারণ তখন প্রকৃতিতে উৎপন্ন গাছ-পালা-লতা-পাতা-মূল ইত্যাদিই বিভিন্ন রোগের ঔষধরূপে ব্যবহৃত হতো। মহাবর্গ গ্রন্থে বুদ্ধ চর্বি, নবনীত, তেল, মধু ও গুড় এই পাঁচ প্রকার ভেষজ দ্রব্যের ব্যবহারের কথা বলেছেন।
বুদ্ধের চিকিৎসক ছিলেন ভেষজ বিশারদ জীবক। তিনি বলেছেন পৃথিবীতে যত গাছ-লতা-গুল্ম-মূল আছে সবই ভেষজ। তাহলে আমাদের জানতে হবে নানা বৃক্ষরাজি, লতা-পাতা, ফল-ফুল, আমাদের প্রাণ রক্ষাকারী ভেষজও বটে। স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য ফলের গুণ অনেক বেশি।
প্রকৃতি ও পরিবেশকে রক্ষার ভাবনা বুদ্ধের সময় যেমন ছিল তেমনি পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন বৌদ্ধ রাজার আমলেও লক্ষ্য করা যায়। সম্রাট অশোক পরিবেশ সংরক্ষণের তথা জীব বৈচিত্র্য রক্ষার জন্য আদেশ জারি করেছিলেন। তাঁর নির্দেশ ছিল রাজ্যে কোনো গাছ কাটতে হলে সংশ্লিষ্টদের অনুমতি গ্রহণ করতে হবে। পশুপাখি নিয়ে নানা ধরনের নিষ্ঠুর খেলার নিয়ম নিষিদ্ধ ছিল। এছাড়া যাগযজ্ঞ ও রাজকীয় ভোজনের জন্য পশু বধের রীতিও নিষিদ্ধ করেন।
পবিত্র বাইবেলের বর্ণনা
জেনেসিস ১:১ থেকে ২:৪a পর্যন্ত ০৭ দিনে পৃথিবী সৃষ্টির কাহিনী বলা হয়েছে, তৃতীয় দিনে মহান প্রভু বৃক্ষ সৃষ্টি করেন,
“আকাশের নিচে সমস্ত পানি মিলেমিশে পরিণত হলো এক সমুদ্রে। বাকি অংশে মাথা জাগাল শুষ্ক ভূমি। এরপর সেখানে উৎপন্ন হলো নানা প্রজাতির গাছপালা। ফলে-ফুলে ভরে উঠল পৃথিবী। সমাপ্তি ঘটল তৃতীয় দিনের।”
গাছ-বৃক্ষ প্রকৃতি ও পরিবেশের ‘বন্ধু’। ধর্মীয় বাণীগুলো থেকে বোঝা যায় বৃক্ষরোপণ করা কত বড় মহৎ, কল্যাণ, সওয়াব আর পরিবেশবান্ধব কাজ। ভারসাম্যপূর্ণ ও দূষণমুক্ত পরিবেশ তৈরিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা বৃক্ষের। শুধু পরিবেশ রক্ষার জন্যই নয়; বরং ধর্মীয় কারণেও মানুষের বৃক্ষরোপণ করা চাই। প্রাকৃতিক পরিবেশের বিপর্যয়ের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে জনগনকে সচেতন ও সম্পৃক্ত করতে হবে। দেশে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ ও বনায়ন সৃষ্টি করতে হবে।

লেখক,
কৃষিবিদ কামরুল ইসলাম
৩৫ তম বিসিএস কৃষি
কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার
পুঠিয়া, রাজশাহী

নিউজ টি শেয়ার করে অন্যদের জানার সুযোগ করে দিন...

এ জাতীয় আরো খবর..

© All rights reserved © 2020 krishinews24bd

Site Customized By NewsTech.Com