গৌতম চন্দ্র বর্মন, ঠাকুরগাঁওঃ

ঠাকুরগাঁওয়ে এক কৃষকের ২ একর ৩৩ শতক জমির ধানক্ষেতে আগাছানাশক বিষ প্রয়োগ করে ফসল নষ্ট করেছে দূর্বৃত্তরা।

গত শুক্রবার (১৭সেপ্টম্বর) ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার ভরনিয়া মশালডাঙ্গী বিলে ঘটনাটি ঘটেছে।

জমির মালিক ও ভুক্তভোগী কৃষকের নাম মতিউর রহমান। তিনি হরিপুর উপজেলার উত্তর সোনামতি গ্রামের সাইফুদ্দীনের ছেলে।

মতিউর জানান, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে পরিকল্পিতভাবে তার ৭ বিঘা আমন ধানক্ষেতে জংগলমারা কীটনাশক প্রয়োগ করে ফসল ধ্বংস করেছে প্রতিপক্ষক্ষের লোকজন। এ ঘটনায় জামাল, মোজাফফর, আবুল কাসেম সহ ১৫ জনকে আসামি করে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি। এছাড়াও কৃষি অধিদপ্তর ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট দুষ্কৃতিকারীদের শাস্তির দাবি জানিয়ে লিখিত অভিযোগও করা হয়।

কৃষক মতিউরের স্বপ্ন আবর্তিত হতো ওই জমি ও তার ফসলকে কেন্দ্রে করে। ধান বিক্রি করে তার আয় হবে। আর সেই টাকা থেকে ধার-দেনা পরিশোধ করবেন। বাকি অর্থ দিয়ে সংসারের ভরণ-পোষণ চালাবেন। কিন্তু দুর্বৃত্তদের কালো নজরে পড়ায় তার ক্ষেতে বিষ প্রয়োগ করে ফসল ধ্বংস করা হয়।

স্থানীয় কৃষকরা অভিযোগ করেন, গ্যামোক্সিন নামের কীটনাশক আগাছানাশক বিষ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। দুর্বৃত্তরা তার অপব্যবহার করছে। তারা সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থাপনায় এ কীটনাশক বিক্রির দাবি জানান।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল সুলতান জুলকার নাইন কবির স্টিভ সাংবাদিকদের জানান, ইতোমধ্যে তিনি অভিযোগ পেয়েছেন। কৃষি অফিসারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় দেবনাথ বলেন, ‘ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জমি পরিদর্শন করেছি। তাতে আমার মনে হলো, এটা কোনো রোগ কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগের করণে ফসল নষ্ট হয়নি। অতিরিক্ত বিষাক্ত বিষ প্রয়োগ করার কারণে ক্ষেতের ধান গাছ পুড়ে গেছে।’

রাণীশংকৈল থানা পুলিশ পরিদর্শক ওসি এসএম জাহিদ ইকবাল বলেন, ‘ধানক্ষেত বিষাক্ত রাসায়নিক দিয়ে ফসল নষ্ট করার একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তসাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *