সবুজ আপেলের চড়া দামে মলিন ক্রেতার মুখসবুজ আপেলের চড়া দামে মলিন ক্রেতার মুখ

নিউজ ডেস্কঃ
ঢাকার বাজারে হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে সবুজ আপেলের দাম। মান ও বাজারভেদে প্রতি কেজি আপেলের দাম ৩২০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত। এক মাস আগে এ আপেলের কেজি ছিল ১৮০ থেকে ২০০ টাকা। সেই হিসাবে এক মাসের ব্যবধানে প্রতি কেজি সবুজ আপেলের দাম বেড়েছে ৭৭ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত।

কারওয়ান বাজারের ফলবাজারে পাওয়া যাচ্ছে দুই ধরনের সবুজ আপেল। তুলনামূলক যেগুলো একটু ছোট, সেগুলোর কেজি ৩২০ টাকা। তুলনামূলক বড়গুলোর কেজি ৪০০ টাকা। আর সুপারশপগুলোতে আপেলের কেজি ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা। এই দামেও ক্রেতারা কিনছেন সবুজ আপেল, ফলে দাম বাড়ছে প্রতিদিনই।

বিক্রেতারা বলছেন, এমনিতে করোনার কারণে আপেলের চাহিদা বেড়েছে বাজারে। অন্যদিকে জাহাজ-সংকটে আমদানি কমে গেছে। প্রতিবছর দেশে যে পরিমাণ সবুজ আপেল আমদানি হয়, তার বড় অংশই আসে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে।

 

ক মাসের ব্যবধানে প্রতি কেজি সবুজ আপেলের দাম বেড়েছে ৭৭ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত। ১৮০ টাকা কেজির আপেল এখন বিক্রি হচ্ছে ৩২০ থেকে ৪০০ টাকায়।
আমদানিকারকেরা বলছেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় এখন এ আপেলের মৌসুম না। তাই চাহিদার তুলনায় জোগানের সংকট রয়েছে। এতে বাজারে দাম চড়া।

ঢাকার এলিফ্যান্ট রোড, মগবাজার ও কারওয়ান বাজার এলাকার ফলের দোকান ঘুরে দেখা যায়, সব দোকানে এখন সবুজ আপেল মিলছে না। গুটিকয়েক দোকানে এ ফল বিক্রি হচ্ছে। কারওয়ান বাজারের ফল বিক্রেতা আবু সাঈদ বলেন, সরবরাহ খুব কম। তাই দাম বাড়তি।

রাজধানীর পুরান ঢাকার বাদামতলি এলাকার পাইকারি ফল বিক্রেতা মো. মঞ্জুর ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘এক মাস আগেও ১৮ কেজির এক বাক্স সবুজ আপেলের দাম ছিল ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকা। আজ বুধবার সেই দাম উঠেছে সর্বোচ্চ ৭ হাজার টাকায়।’

এদিকে, সবুজ আপেলের দাম হঠাৎ করে অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলেও বাজারে অন্য যেসব আপেল পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলো বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে
বাজারে হঠাৎ করে সবুজ আপেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে ফল আমদানিকারকদের সংগঠন ফ্রেশ ফ্রুট ইম্পোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, প্রথমত, দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে এ আপেল পাওয়া যাচ্ছে কম। দ্বিতীয়ত, করোনার কারণে এখন পণ্য আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে জাহাজেরও সংকট দেখা দিয়েছে। আবার বাজারে চাহিদাও বেড়েছে। সব মিলিয়ে তাই সবুজ আপেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে।

চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি হওয়া ফলের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, প্রতিদিন গড়ে দেশে ১৭ লাখ কেজি বিদেশি ফলের চাহিদা রয়েছে, যার মধ্যে আপেল শীর্ষে।

বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে সবুজ আপেলের চাহিদাই সবচেয়ে বেশি। তবে পুষ্টিবিদেরা বলছেন, রংভেদে আপেলের পুষ্টিগুণে কোনো পার্থক্য নেই। এ বিষয়ে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের ফল বিভাগের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা বাবুল চন্দ্র সরকার প্রথম আলোকে বলেন, একজন মানুষকে প্রতিদিন গড়ে যেকোনো ধরনের ফল ২০০ গ্রাম খেতে হবে। আপেলে ভিটামিন বি-১২ থাকে, যা স্নায়ু ও রক্তকোষকে শক্তিশালী করে। তবে রংভেদে আপেলের পুষ্টিগুণে কোনো তারতম্য হয় না।
সুত্রঃ প্রথম আলো

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *